মিরপুরে পাকিস্তানের মেয়েদের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে আজ ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। উইকেটের ব্যবধানে এটিই বাংলাদেশের বড় জয়। আগে ব্যাটিং করতে নেমে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। লক্ষ্য তাড়ায় দুই ওপেনার মুর্শিদা খাতুন ও ফারজান হক পিংকি মিলে দলকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন। দুজনে মিলে গড়েন ১২৫ রানের রেকর্ড জুটি। পিংকি করেন ৬২ আর মুর্শিদার ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রান। এরপর শেষদিকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানার ৩৯ রানের জুটিতে ৪.২ ওভার আগেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় বাংলাদেশ।

ঘরের মাঠে দারুণ ছন্দে বাংলাদেশের মেয়েরা। টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর ওডিআইতেও পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারাল জ্যোতি-নাহিদারা। এর আগে সিরিজের প্রথমে ম্যাচে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৫ উইকেট হারতে হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে বোলারদের নৈপুণ্যে ১৬৯ রানের টার্গেট দিয়ে পাকিস্তানকে ১৬৯ রানেই আটকে দিয়েছিল টাইগ্রেসরা। এরপর সুপার ওভারে নাহিদা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিং আর ব্যাটিংয়ে সোবানা মোস্তারি ও নিগার সুলতানার জ্যোতির বীরত্বে জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।

আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়শিপে পাকিস্তানের দেয়া রান তাড়ায় নেমে ওপেনিংয়ে রেকর্ড জুটি গড়েন ফারজানা হক ও মুর্শিদা খাতুন।তোলেন ১২৫ রান। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ১১৩ রান, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১১ সালে। ৬২ রানে ফারজানার আউটে ভাঙে এই জুটি। ১১৩ বলে ৫টি চারের মারেন তিনি।

দুই ওভার পর ফেরেন মুর্শিদাও। ১০৬ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। ৮৮ বলে দেখা পান ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটির। তার আউটের পরপরই রানআউটে ফেরেন ফাহিমা খাতুন।

এরপর ম্যাচ শেষ করে আসেন নিগার ও সোবহানা মোস্তারি। নিগার ১৮ ও সোবহানা ১৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। পাকিস্তানের হয়ে ২ উইকেট নেন নাশরা সিন্ধু।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করা পাকিস্তানের মেয়েরা দারুণ শুরু করলেও শেষপর্যন্ত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। তবে একাই লড়াই করেন সিদরা আমিন।

তার ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশকে ১৬৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পাকিস্তান। সিদরার ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৮৪ রান। ১৪৩ বলে ৩টি চারের মারে এই রান করেন সিদরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রান আসে সাদাফ শামসের ব্যাট থেকে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন নাহিদা আক্তার। ২ উইকেট নেন রাবেয়া খান। ১টি করে উইকেট নেন ফাহিমা খাতুন, নিশিতা আক্তার নিশি ও স্বর্ণা আক্তার।